পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় SAQ

১. ‘লোকটি কাশিতে কাশিতে আসিল’— লোকটি কে?
উত্তর: লোকটি হল পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক, যিনি গিরীশ মহাপাত্রের ছদ্মবেশ ধারণ করেছিলেন।

২. ‘সহসা আশঙ্কা হয়’— কোন্ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: রোগা চেহারার গিরীশ মহাপাত্রের সামান্য কাশির পরিশ্রমেই হাঁপানির অবস্থা দেখে তার মৃত্যু আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে।

৩. গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষার বাহার ও পারিপাট্য দেখে নিমাইবাবু কী বলেছিলেন?
উত্তর: নিমাইবাবু বলেছিলেন, “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।”

৪. “তার আমি জামিন হতে পারি”— কে, কীসের জামিন হতে চেয়েছে?
উত্তর: অপূর্ব এই বলে গিরীশ মহাপাত্রের জামিন হতে চেয়েছিল যে, সে সব্যসাচী নয়।

৫. “নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন”— নিমাইবাবুর চুপ করে থাকার কারণ কী?
উত্তর: অপূর্বর কথায় আস্থা রাখলেও সব্যসাচীর প্রখর বুদ্ধির কথা ভেবে নিশ্চিত হতে না পেরে নিমাইবাবু চুপ করে রইলেন।

৬. গিরীশ মহাপাত্রের ট্যাঁক ও পকেট থেকে কী কী বার হয়েছিল?
উত্তর: ট্যাঁক থেকে একটি টাকা ও গণ্ডা-ছয়েক পয়সা, এবং পকেট থেকে একটি লোহার কম্পাস, একটি কাঠের ফুটরুল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই ও গাঁজার একটি কলকে বার হয়েছিল।

৭. “দেখো জগদীশ, কিরূপ সদাশয় ব্যক্তি ইনি”— ব্যক্তিটিকে সদাশয় বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র দাবি করেছিল যে গাঁজার কলকটি সে অন্যের জন্য রেখেছে, নিজের জন্য নয়; এই ‘পরোপকারিতার’ জন্য নিমাইবাবু তাকে সদাশয় বলেছেন।

৮. “বাবুজি, ম্যয় নে আপকো তো জরুর কঁহা দেখা”- কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: বাবুজি, আমি আপনাকে অবশ্যই কোথাও দেখেছি।

৯. “আশ্চয্যি নেহি হ্যায় বাবু সাহেব, নোকরির বান্তে কেত্তা যায়গায় তো ঘুমতা হ্যায়,”— কথাটির অর্থ কী?
উত্তর: আশ্চর্য নয় বাবুসাহেব, চাকরির খোঁজে কত জায়গায় তো ঘুরতে হয়।

১০. “দৃষ্টি আকৃষ্ট করিয়া সহাস্যে কহিলেন,”— কে, কী বলেছিলেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের পোশাকের বাহারের প্রতি অপূর্বর দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাসির সঙ্গে নিমাইবাবু বললেন— “বাবুটির স্বাস্থ্য গেছে, কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে।”

১১. “পুলিশ স্টেশনে প্রবেশ করিয়া দেখা গেল”— কী দেখা গেল?
উত্তর: দেখা গেল, পুলিশস্টেশনের সামনের হলঘরে জনা ছয়েক বাঙালি বসে আছে আর পুলিশ তাদের মালপত্র তল্লাশি করছে।

১২. “সম্মুখে হাজির করা হইল”— কাকে, কার সামনে হাজির করা হলো?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র ওরফে সব্যসাচী মল্লিককে পুলিশ অফিসার নিমাইবাবুর সামনে হাজির করা হলো।

১৩. “এইটুকু কাশির পরিশ্রমেই সে হাঁপাইতে লাগিলো”— এখানে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে গিরীশ মহাপাত্র ওরফে সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলা হয়েছে।

১৪. “মৃত্যু সেখানে প্রবেশ করতে সাহস করে না”— মৃত্যু কোথায় প্রবেশ করতে সাহস করে না?
উত্তর: সব্যসাচী মল্লিকের চোখের অতল তলে, যেখানে তার ক্ষীণ কিন্তু অদম্য প্রাণশক্তি লুকোনো ছিল, সেখানে মৃত্যুও প্রবেশ করতে ভয় পায়।

১৫. “নিমাইবাবু চুপ করিয়া রহিলেন,”— নিমাইবাবু চুপ থাকায় অপূর্ব কি বলেছিল?
উত্তর: অপূর্ব বলেছিল, “আর যাই হোক, যাকে খুঁজছেন তাঁর কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।”

১৬. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”— এই প্রশ্নের উত্তরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন?
উত্তর: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বলেছিলেন— “আজ্ঞে, পথে কুড়িয়ে পেলাম, যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি।”

১৭. “ক্ষণকাল মৌন থাকিয়া কহিলেন”— উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন?
উত্তর: ক্ষণকাল মৌন থেকে নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে বলেন, গাঁজা খাওয়ার সব লক্ষণ তার মধ্যে আছে এবং এই দেহে সে বেশিদিন বাঁচবে না, তাই সে যেন বুড়ো মানুষের কথা শোনে।

১৮. “জগদীশবাবু চটিয়া উঠিয়া কহিলেন…”-জগদীশবাবু চটে উঠে কী বলেছিলেন?
উত্তর: জগদীশবাবু চটে উঠে বলেছিলেন— “দয়ার সাগর! পরকে সেজে দি, নিজে খাইনে। মিথ্যেবাদী কোথাকার!”

১৯. “বড়োবাবু হাসিতে লাগিলেন।”— বড়োবাবুর হাসির কারণ কী ছিল?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক, আচরণ এবং তার নেবুর তেলের গন্ধে থানার লোকদের কষ্ট দেওয়ার কথা শুনে জগদীশবাবু তাকে ছেড়ে দিতে চাইলে বড়োবাবু হাসতে লাগলেন।

২০. “আজ বাড়ি থেকে কোনো চিঠি পেয়েছেন নাকি?”- কে, কখন এ কথা বলেছিলেন?
উত্তর: অপূর্বর মধ্যে অন্যমনস্কতা লক্ষ করে তার সহকর্মী তলওয়ারকর (রামদাস) চিন্তিত মুখে এ প্রশ্ন করেছিলেন।

২১. “অপূর্ব রাজি হইয়াছিল।”— অপূর্ব কিসে রাজি হয়েছিল?
উত্তর: রামদাসের স্ত্রীর তৈরি মিষ্টান্ন খাওয়ার অনুরোধে অপূর্ব রাজি হয়েছিল।

২২. “এই অন্যায়ের প্রতিবাদ যখন করতে গেলাম”— অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে কি হয়েছিল?
উত্তর: প্রতিবাদ করতে গিয়ে সাহেব স্টেশনমাস্টার অপূর্বকে ভারতীয় বলে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করে স্টেশন থেকে কুকুরের মতো তাড়িয়ে দেয়।

২৩. “মনে হল দুঃখে লজ্জায় ঘৃণায় নিজেই যেন মাটির সঙ্গে মিশে যায়।”— অপূর্বের এরকম মনে হওয়ার কারণ কী ছিল?
উত্তর: ফিরিঙ্গিদের দ্বারা লাঞ্ছিত হওয়া সত্ত্বেও উপস্থিত ভারতীয়দের কেউই তার পক্ষে সায় না নেওয়ায় অপূর্বর এই মনোবেদনা জন্মায়।

২৪. “আমারও তো তাই বিশ্বাস।”— বক্তার কোন বিশ্বাসের কথা এখানে বলা হয়েছে?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র বলেছিল যে ললাটের লিখন খণ্ডানো যায় না। অপূর্ব এই বিশ্বাসের সমর্থন করে উক্তিটি বলেছিলেন।

২৫. ‘বুড়োমানুষের কথাটা শুনো।— বুড়ো মানুষ কোন্ কথা বলেছিলেন?
উত্তর: প্রৌঢ় নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রকে তার স্বাস্থ্যের কথা মনে রেখে গাঁজা না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

২৬. “যাঁকে খুঁজছেন তার কালচারের কথাটা একবার ভেবে দেখুন।”—কথাটি কে বলেছে?
উত্তর: কথাটি অপূর্ব বলেছে।

২৭. “নিমাইবাবু উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিলেন,”—নিমাইবাবু উঠে দাঁড়িয়ে কী বললেন?
উত্তর: নিমাইবাবু উঠে দাঁড়িয়ে বললেন, “আচ্ছা, তুমি এখন যেতে পারো মহাপাত্র”।

২৮. “বাড়ির খবর সব ভালো তো?”-বক্তা কে? প্রশ্ন শুনে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন?
উত্তর: বক্তা তলওয়ারকর। তিনি এ কথা বলেছিলেন অপূর্বকে। প্রশ্ন শুনে অপূর্ব কিছু আশ্চর্য হয়ে বলে— “যতদূর জানি সবাই ভালোই তো আছেন।”

২৯. অপূর্বর ঘরে চুরি হলে কার কৃপায় টাকাকড়ি ছাড়া আর সব বেঁচে গেছে?
উত্তর: অপূর্বর ঘরে চুরি হলে এক খ্রিস্টান মেয়ের কৃপায় টাকাকড়ি ছাড়া আর সব বেঁচে গেছে।

৩০. বিনা দোষে ফিরিঙ্গি ছোঁড়ার অপূর্বকে লাথি মেরে কোথা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল?
উত্তর: তারা অপূর্বকে লাথি মেরে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল।

৩১. ফিরিঙ্গিদের অপূর্বকে লাথি মারার ঘটনা শুনে রামদাসের কী প্রতিক্রিয়া হয়েছিল?
উত্তর: ঘটনা শুনে রামদাস চুপ করে থাকে, মুখ রাগে আরক্ত হয়ে ওঠে এবং চোখ ছলছল করে আসে।

৩২. “তা ছাড়া এত বড়ো বন্ধু।— ‘বন্ধু’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘বন্ধু’ বলতে অপূর্বর ঘরের উপরের তলায় বসবাসকারিণী সেই খ্রিস্টান মহিলার কথা বলা হয়েছে।

৩৩. ‘তিনি ঢের বেশি আমার আপনার।- কোন্ প্রসঙ্গে এই উক্তিটি করা হয়েছে?
উত্তর: নিমাইবাবু আত্মীয় হলেও দেশপ্রেমিক সব্যসাচীকে দেশভক্ত অপূর্বর বেশি আপন বলে মনে হয়েছে এই প্রসঙ্গে উক্তিটি করা হয়েছে।

৩৪. ‘কই এ ঘটনা তো আমাকে বলেননি / — কোন্‌ ঘটনা?
উত্তর: অপূর্বর বিনা দোষে ফিরিঙ্গি যুবকদের হাতে মার খাওয়া ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি।

৩৫. “ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।’— ‘ভ্রম’টি কী?
উত্তর: ভ্রমটি ছিল অপূর্বর এই ধারণা যে প্রথম শ্রেণির টিকিট থাকায় ট্রেনে তার নিশ্চিন্তে ঘুম হবে। কিন্তু পুলিশের বারবার জ্বালাতন তার এই ধারণাকে ভ্রম প্রমাণিত করে।

৩৬. গিরিশ মহাপাত্রের গায়ে কোন ধরনের পোশাক ছিল?
উত্তর: তার গায়ে ছিল জাপানি সিল্কের রামধনু রঙের চুড়িদার পাঞ্জাবি এবং বুকের পকেট থেকে বাঘ-আঁকা রুমাল বেরিয়ে ছিল।

৩৭. “অপূর্ব মুগ্ধ হইয়া সেই দিকেই চাহিয়া ছিল”— মুগ্ধ অপূর্ব কোন্ দিকে চেয়েছিল?
উত্তর: অপূর্ব মুগ্ধ হয়ে গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত ও প্রখর দীপ্ত চোখের দিকে চেয়েছিল।

৩৮. থানায় আটক করা হ – জন বাঙালি রেঙ্গুনে এসেছিল কেন?
উত্তর: জল-হাওয়া সহ্য না হওয়ায় তারা উত্তর ব্রহ্মের তেলের খনি ছেড়ে অন্য কাজের খোঁজে রেঙ্গুনে চলে এসেছিল।

৩৯. “পরকে সেজে দি , নিজে খাইনে কখনো”— এমন উক্তি করা হয়েছে কেন?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্র গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তা অস্বীকার করে বলেছিল যে সে শুধু অন্যকে গাঁজা দেয়, নিজে খায় না। এই মিথ্যা কথায় জগদীশবাবু চটে এই উক্তি করেন।

৪০. “কেবল এই জন্যই যেন সে আজও বাঁচিয়া আছে।— ‘এই জন্যই’ বলার কারণ কী?
উত্তর: তার দৃষ্টির গভীরে যে প্রাণশক্তি লুকিয়ে ছিল, তাকেই মৃত্যু ভয় পেত, এই কারণেই সে বেঁচে আছে বলে মনে হত।

৪১. “ভয় হয় এখানে খেলা চলিবে না , ‘ — উক্তিটি পরিস্ফুট করো।
উত্তর: সব্যসাচীর চোখের গভীর দৃষ্টির সামনে কোনোরকম কপটতা বা ছলচাতুরি সফল হবে না, এই ভয়ের কথা উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে।

৪২. “কী বল অপূর্ব । অপূর্বর কাছে কোন কথার সমর্থন আশা করা হয়েছে?
উত্তর: নিমাইবাবু গিরীশ মহাপাত্রের বাহারি পোশাকের প্রতি অপূর্বর দৃষ্টি আকর্ষণ করে যে কথা বলেছিলেন, সেই কথারই সমর্থন আশা করা হয়েছে।

৪৩. “তাহাকে আর একটা ঘরে আটকাইয়া রাখা হইয়াছে । — কাকে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: গিরীশ মহাপাত্রর ছদ্মবেশীধারী রাজবিদ্রোহী সব্যসাচী মল্লিককে আটকে রাখার কথা বলা হয়েছে।

৪৪. “ইহার আপাদমস্তক অপূর্ব বারবার নিরীক্ষণ করিয়া কহিল …।”—অপূর্ব কী বলেছিল?
উত্তর: সন্দেহভাজন গিরীশ মহাপাত্রের আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করে অপূর্ব বলেছিল—লোকটিকে নিমাইবাবু কোনো কথা জিজ্ঞেস না-করেই ছেড়ে দিতে পারেন। কারণ যাকে খোঁজা হচ্ছে সে যে এই ব্যক্তি নন, তার জামিন সে হতে পারে।

৪৫. রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে একদিন সনির্বন্ধ অনুরোধ করে কী বলেছিলেন?
উত্তর: রামদাসের স্ত্রী অপূর্বকে একদিন সনির্বন্ধ অনুরোধ করে বলেছিলেন—যতদিন তার মা কিংবা বাড়ির কোনো আত্মীয় মহিলা এদেশে এসে বাসার উপযুক্ত ব্যবস্থা না-করেন, ততদিন তার তৈরি মিষ্টান্ন তাকে খেতে হবে।

৪৬. জনছয়েক বাঙালি কোথায় কাজ করত?
উত্তর: জনছয়েক বাঙালি উত্তরব্রহ্মে বর্মা-অয়েল-কোম্পানির তেলের কারখানায় মিস্ত্রির কাজ করত।

৪৭. “তবে এ বস্তুটি পকেটে কেন?”— এই প্রশ্নের উত্তরে উদ্দিষ্ট ব্যক্তি কী বলেছিলেন?
উত্তর: উদ্দিষ্ট ব্যক্তি বলেছিলেন— “আজ্ঞে, পথে কুড়িয়ে পেলাম, যদি কারও কাজে লাগে তাই তুলে রেখেছি।”

৪৮. “জগদীশবাবু সম্মতি জানাইলে কহিলেন”— জগদীশবাবু সম্মতি জানালে কে এবং কি বললেন?
উত্তর: জগদীশবাবুর সম্মতিতে নিমাইবাবু বললেন এই শহরে আরো কিছুদিন নজর রাখা দরকার এবং বিশেষ করে নীল ট্রেনটার প্রতি একটু বেশি দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন।

৪৯. “বড়বাবু হাসিতে লাগিলেন।”— বড়বাবুর হাসির কারণ কি ছিল?
উত্তর: জগদীশবাবু গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত পোশাক, আচরণ এবং বোকার মত মিথ্যা কথা বলার প্রবণতা দেখে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে বড়বাবু হাসতে থাকেন।

৫০. অপূর্বর ঘরে চুরি হলে ক্রিশ্চান মেয়েটি কী করেছিল?
উত্তর: খ্রিস্টান মেয়েটি অবশিষ্ট জিনিসপত্র গুছিয়ে দিয়েছিল এবং কী চুরি গেছে আর কী যায়নি তার ফর্দ বানিয়েছিল।

৫১. “অফিসের একজন ব্রাহ্মণ পিয়াদা এই সকল বহিয়া আনিত।” -কী বয়ে আনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: রামদাসের স্ত্রীর তৈরি করে দেওয়া খাবার অফিসের ব্রাহ্মণ পেয়াদা নিয়ে আসত।

৫২. পুলিশে চুরির ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে গিয়ে অপূর্ব কী দেখল?
উত্তর: অপূর্ব দেখল সেখানে পলিটিক্যাল সাসপেক্ট সব্যসাচী মল্লিক ভেবে গিরীশ মহাপাত্রকে ধরে নিয়ে এসেছে এবং তার অদ্ভুত সাজপোশাক নিয়ে থানায় তামাশা চলছে।

৫৩. অপূর্ব কোন্ ঘটনার প্রতিবাদ করেছিল?
উত্তর: বিনা দোষে কিছু ফিরিঙ্গি ছেলে অপূর্বকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দিয়েছিল, সেই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল অপূর্ব।

৫৪. অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় অপূর্বকে কারা কীভাবে হেনস্থা করেছিল?
উত্তর: অপূর্ব অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে এক সাহেব স্টেশনমাস্টার অপূর্ব ভারতীয় বলে তার সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করে তাকে স্টেশন থেকে কুকুরের মতো দূর করে দেয়।

৫৫. কী কারণে রামদাসের মুখ রাগে আরস্ত হয়ে উঠল?
উত্তর: অপূর্বর মুখে ফিরিঙ্গিদের তাকে লাথি মেরে প্ল্যাটফর্ম থেকে বার করে দেওয়া এবং সাহেব স্টেশনমাস্টারের কাছে অপমানিত ও লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনা শুনে রামদাসের মুখ রাগে আরক্ত হয়ে উঠল।

৫৬. কী শুনে রামদাসের চোখ ছলছল করে উঠল?
উত্তর: সাহেবদের কাছে অপূর্বর লাঞ্ছিত হওয়া সত্ত্বেও হিন্দুস্থানের লোকেরা কেউ কোনো প্রতিবাদ করেনি, বরং লাঞ্ছনার চোটে অপূর্বর হাড়-পাঁজরা ভাঙেনি শুনে খুশি হয়েছিল। এ কথায় রামদাসের চোখ ছলছল করে উঠল।

৫৭. “ইত্যবসরে এই ব্যাপার।” – কোন ব্যাপারের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: অপূর্বর সহকর্মী তেওয়ারি, বর্মা নাচ দেখতে ফয়ায় যাওয়ার অবসরে তাদের বাড়িতে চুরি হয়ে গিয়েছিল। এই ব্যাপারের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

৫৮. “তিনি আমার আত্মীয়, আমার পিতার বন্ধু।”— ‘তিনি’ প্রশ্ন বলতে যাঁর কথা বলা হয়েছে, তাঁর পরিচয় দাও।
উত্তর: উদ্ধৃতাংশে ‘তিনি’ বলতে থানার বড়োবাবু নিমাইবাবুকে বোঝানো হয়েছে। তিনি অপূর্বর বাবার বন্ধু তাই তার পিতৃস্থানীয়।

৫৯. “বাবুজি, এসব কথা বলার দুঃখ আছে।”— কোন্ সব কথা বললে দুঃখ হতে পারে বলা হয়েছে?
উত্তর: উদ্ধৃতিটির বক্তা অপূর্বর সহকর্মী তলওয়ারকার। দুঃখ ঘটার মতো কথাগুলি হল ইংরেজ পুলিশ নিমাইবাবু অপূর্বর আত্মীয় হলেও স্বাধীনতাযুদ্ধে আত্মনিয়োগকারী সব্যসাচীই তার বেশি আপন।

৬০. “আমার ইচ্ছা তুমি একবার সবগুলো দেখে আস / —কী দেখে আসার কথা হয়েছে?
উত্তর: ‘পথের দাবী’ পাঠ্যাংশে অপূর্বর বড়োবাবু তাদের ভামো, ম্যান্ডালে, শোএবো, মিথিলা এবং প্রোমে – এর অফিসগুলির বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগের কথা বলেছেন। সেগুলি অপূর্বকে দেখে আসার কথা বলেছেন।

৬১. “এই সেই গিরীশ মহাপাত্র / — ‘এই সেই’ বলার কারণ কী?
উত্তর: অপূর্ব গিরীশ মহাপাত্রকে দু–বার দেখেছিল। প্রথমবার থানায় আর দ্বিতীয়বার রেলওয়ে স্টেশনে। অপূর্বর বর্ণনা অনুযায়ী রামদাস সহজেই তাকে চিনে নেয় ও এমন মন্তব্য করে।

৬২. “কিন্তু তোমার বাপু একটা ভুল হয়েছে, কার,, কোন ভুল হয়েছিল?
উত্তর: অপূর্বকে প্রথমবার পুলিশ থানায় দেখে গিরীশ মহাপাত্র তাকে পুলিশের লোক ভাবে। দ্বিতীয়বার রেলস্টেশনে তাদের দেখা হলে, অপূর্ব তার ভুল ভাঙাবার জন্য তাকে এই কথা বলে।

৬৩. “কিন্তু এই হাসিতে তলওয়ারকর যোগ দিল না।” তলওয়ারকর হাসিতে যোগ দিল না কেন?
উত্তর: রেলস্টেশনে গিরীশ মহাপাত্রকে এক ঝলক দেখেই তলওয়ারকর তাকে পুলিশের সন্দেহভাজন বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিক বলে সন্দেহ করেছিল। তাই অপূর্বর হাসির কথায় সে যোগ দিতে পারেনি।

৬৪. “ইহা যে কত বড়ো ভ্রম তাহা কয়েকটা স্টেশন পরেই সে অনুভব করিল।’— ‘ভ্রম’টি বলা হয়েছে?
উত্তর: ভামো যাত্রাকালে ট্রেনে প্রথম শ্রেণির টিকিট থাকায় অপূর্ব রাত্রের ঘুমটা ভালোই হবে ভাবলেও পুলিশি তদন্ত ও ভারতীয় বলে তাকে অসম্মানিত হতে হয়। তার ধারণা ‘ভ্রমে’ পরিণত হয়।

৬৫. খানাতল্লাশির পর গিরীশ মহাপাত্রের কাছ থেকে কী কী পাওয়া গিয়েছিল?
উত্তর: ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অনুসারে খানাতল্লাশির পর গিরীশ মহাপাত্রের কাছ থেকে একটি টাকা, গণ্ডা–ছয়েক পয়সা, একটি লোহার কম্পাস, মাপ করার কাঠের ফুটরুল, কয়েকটি বিড়ি, একটি দেশলাই এবং একটি গাঁজার কলকে পাওয়া গিয়েছিল।

৬৬. “অপূর্ব মুগ্ধ হইয়া সেই দিকেই চাহিয়া ছিল— মুগ্ধ অপূর্ব কোন্ দিকে চেয়েছিল?
উত্তর: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অনুসারে অপূর্ব মুগ্ধ হয়ে গিরীশ মহাপাত্রের অদ্ভুত দুটি চোখের দিকে চেয়েছিল।

৬৭. সে যে বর্মায় এসেছে এ খবর সত্য- ‘সে’ বলতে কার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ‘পথের দাবী’ রচনাংশ থেকে উদ্ধৃত উদ্ভিটির বন্ধা বর্মা পুলিশের বড়োকর্তা নিমাইবাবু। তিনি এখানে ‘সে’ বলতে রাজবিদ্রোহী বিপ্লবী সব্যসাচী মল্লিকের কথা বলেছেন।

৬৮. “জগদীশবাবু চটিয়া উঠিয়া কহিলেন— জগদীশবাবুর চটে ওঠার কারণ কী ছিল?
উত্তর: ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অনুসারে গাঁজা খাওয়ার সমস্ত লক্ষণ গিরীশ মহাপাত্রের আচার–আচরণে বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও সে গাঁজা খাওয়ার কথা অস্বীকার করেছিল। এ জন্যেই জগদীশবাবু চটে গিয়েছিলেন।

৬৯. “কিন্তু শখ ষোলোআনাই বজায় আছে কোন্ প্রসঙ্গে বক্তা এমন উক্তি করেছেন?
উত্তর: ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অনুসারে বর্মা পুলিশের বড়োকর্তা নিমাইবাবু পুলিশের চোখে সন্দেহভাজন হিসেবে ধৃত গিরীশ মহাপাত্রের বেশভূষার বাহার ও পরিপাট্য দেখে; সহাস্যে অপূর্বর দৃষ্টি আকর্ষণ করে এমন মন্তব্য করেছিলেন।

৭০. “আজ থেকে মাথায় তুলে নিলাম’— বস্তা কী মাথায় তুলে নিয়েছেন?
উত্তর: ‘পথের দাবী’ রচনাংশ অনুসারে অপূর্বর মতে শতসহস্র পরাধীন দেশবাসীকে অবর্ণনীয় অপমান–অত্যাচারের হাত থেকে যে দেশপ্রেমিক বিপ্লবীরা উদ্ধার করতে চায়, তাঁদের সে অন্তরের আপন বলেই মনে করে। তাঁদের আপনার বলে মনে করায় যে দুঃখই থাক তা অপূর্ব সহ্য করতে প্রস্তুত। এ দায়িত্বই সে মাথায় তুলে নিয়েছে।

আরও পড়ুন👇

গল্প

জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী

বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ

পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অদল বদল (গল্প) পান্নালাল প্যাটেল

কবিতা

অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা

আয় আরো বেধে বেধে থাকি (কবিতা) শঙ্খ ঘোষ

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলা

অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (কবিতা) জয় গোস্বামী

সিন্ধুতীরে (কবিতা) সৈয়দ আলাওল

মাধ্যমিক বাংলা প্রবন্ধ

হারিয়ে যাওয়া কলি কলম (প্রবন্ধ) নিখিল সরকার

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু

মাধ্যমিক বাংলা নাটক

সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত

মাধ্যমিক বাংলা সহায়ক পাঠ

কোনি (সহায়ক পাঠ) মতি নন্দী

Leave a Reply