১. ‘তবলা বাজা’-মালিশওয়ালা কীভাবে তবলা বাজিয়েছিল?
উত্তর: মালিশওয়ালা দশ আঙুল দিয়ে বিন্টু ধরের গলা থেকে কোমর অবধি ধপাধপ চাঁটি মারতে শুরু করেছিল। তবলা বাজানো বলতে এ কথাই বোঝানো হয়েছিল।
২. ‘প্রজাপতি’র পরিচয় দাও।
উত্তর: ক্ষিতীশ সিংহের স্ত্রী লীলাবতী পরিচালিত মহিলা ও শিশুদের পোশাক তৈরির দোকান হল ‘প্রজাপতি’। দোকানে কোনো পুরুষ কর্মচারী নেই। লীলাবতী দুজন মহিলা কর্মচারীকে নিয়ে চার বছরের মধ্যে প্রজাপতিকে প্রতিষ্ঠিত করেছিল।
৩. ‘আমাকে রাগালে কি হয়, এবার বুঝলি তো।’ -কোন্ ঘটনার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বাবুণীর দিন গঙ্গা থেকে আম সংগ্রহ করার প্রতিযোগিতায় কোনির সঙ্গে ভাদুর বিরোধ বাধে। কোনি আত্মরক্ষা করতে গিয়ে ভাদুর আঙুলে কামড়ে গর্ত করে দেয়। এখানে সেই ঘটনার কথা বলা হয়েছে।
৪. ‘খাটবে যে খাদ্য কই’-এ কথার তাৎপর্য বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: ক্ষিতীশ যখন নিজের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগের উত্তরে সাঁতারুদের পরিশ্রম না করার কথা তুলেছিল, তখন হরিচরণ মন্তব্য করে যে, খাটার জন্য খাদ্য প্রয়োজন হয়। ঠিকমতো খাদ্য না পেলে পরিশ্রম করে যক্ষ্মা রোগের শিকার হয়ে কোনো লাভ নেই।
৫. ‘সেই আমে হাত দেয়ার সাধ্য কারুর নেই’-কোন্ আমের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: বারুণী উৎসবের দিন মানুষ গঙ্গায় আম বিসর্জন দেয়। কমবয়সি ছেলেরা গঙ্গায় সাঁতার দিয়ে সেই আম সংগ্রহ করে প্যান্টের পকেটে রেখে দেয়। পরে তা কম দামে বিক্রি করে। সেই আমে হাত দেওয়ার সাধ্য কারুর নেই।
৬. ‘শুধু চোখ দিয়ে কামান দাগতে লাগল- চোখ দিয়ে কামান দাগা বলতে কী বোঝো?
উত্তর: চোখ দিয়ে কামান দাগার অর্থ হল, চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে প্রচন্ড রাগের বহিঃপ্রকাশ। কথায় বলে, চোখ মনের আয়না। তাই মানুষের মনোজগতে যে সমস্ত ভাব আলোড়ন তোলে তা চোখের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। এখানে বিষ্ণুচরণ চোখ দিয়ে ক্ষিতীশের উপর তার রাগ প্রকাশ করেছে।
৭. ‘ক্ষিতীশ তর্ক শুরু করেছিল’-কোন্ বিষয়ে ক্ষিতীশ তর্ক শুরু করেছিল?
উত্তর: হিন্দুধর্মের গৃহবধূদের প্রচলিত সংস্কার অনুযায়ী লীলাবতী ক্ষিতীশের এঁটো থালায় ভাত খেত। স্বাস্থ্যসচেতন ক্ষিতীশ এই বিষয়টিকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বলে তর্ক শুরু করেছিলেন।
৮. ‘বিন্টু ধর অসহায়ভাবে পিছনে তাকাল’- তার বিষ্ণু ধরের অসহায়তার কারণ কী ছিল?
উত্তর: নেতাজি বালক সংঘের অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতার শেষে সভাপতি বিন্টু ধর বক্তৃতা দিতে ওঠেন। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটা কবিতা বলবেন বলে প্রস্তুত হলেও কার্যক্ষেত্রে তিনি সেটা খুঁজে না পেয়ে অসহায়ভাবে পিছনে তাকিয়েছিলেন।
৯. ‘তানপুরো ছাড়’-এরপর কী ঘটেছিল?
উত্তর: বিন্টুর নির্দেশে মালিশওয়ালা দশ আঙুল দিয়ে তার সারা শরীরের চর্বিগুলো খামচে টেনে টেনে ধরে ছেড়ে দিতে লাগল। একেই তানপুরো ছাড় বলা হয়েছে।
১০. ‘আপনার ওজনটা খুব বিপজ্জনক হার্টের পক্ষে’।-এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: বিন্টু ধরের সাড়ে তিন মণী দেহ দেখে ক্ষিতীশ এ কথা বলেছিলেন। কারণ এত ওজন হলে মানুষের ব্লাড সুগার, ব্লাড প্রেশার, কোলেস্টেরল বেড়ে যায়। সে মারাও যেতে পারে।
১১. ‘মনের জোরেই সব হয়’-মনের জোরে কী কী হয় বলে ক্ষিতীশ মনে করে?
উত্তর: ক্ষিতীশ মনে করে যে, ইচ্ছাশক্তি দিয়ে শরীরের দুর্বলতা ঢাকা দেওয়া যায়। শরীর যতটা করতে পারে ভাবে, তার থেকেও শরীরকে দিয়ে বেশি করাতে পারে ইচ্ছাশক্তি। তাই শরীরের সঙ্গে মনকেও গড়তে হয়। মন হুকুম করবে, শরীর কাজ করবে।
১২. ‘ঘাটে থই থই ভিড়’-ভিড়ের কারণ কী?
উত্তর: বাবুণী উৎসবের দিন মানুষ পুণ্য অর্জনের জন্য গঙ্গায় গিয়ে পুজো করে ও কাঁচা আম বিসর্জন দেয়। এই উপলক্ষে কেউ পুণ্য অর্জন করতে, কেউ অর্থ উপার্জন করতে, কেউ বা আম কুড়োতে ঘাটে আসে। তাই এই ভিড়।
১৩. ‘এই ঘরে ক্ষিতীশ দুপুরে এক ঘণ্টা ঘুমোয়’ ঘরটি কিরূপ?
উত্তর: ক্ষিতীশ যে ঘরে দুপুরে এক ঘণ্টা ঘুমোয়, সেই ঘরে বই, ম্যাগাজিন, তক্তপোশ এবং তার নীচে ট্রেনিংয়ের জন্য রবারের দড়ি, স্প্রিং ও লোহা ছাড়া আর কিছু নেই। কোনো বিছানা নেই, পাখা নেই। কারণ সে মনে করে, চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে গুরু ও শিষ্য দুজনকেই কঠোর জীবনযাপন করতে হয়।
১৪. ‘এইসব অবিরাম ব্যাপারগুলোর মধ্য দিয়ে কার কেমন সহ্যশীলতা কেমন একগুঁয়েমি সেটা বোঝা যায়’-কীভাবে তা বোঝা যায়?
উত্তর: অবিরাম বা একটানা প্রতিযোগিতাগুলির মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারীর ধৈর্য, সহনশীলতা ও অধ্যবসায় উপলব্ধি করা যায়। কারণ ব্যক্তিত্বে ও চরিত্রে ওইসব গুণাবলি না থাকলে কখনোই অবিরাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই ক্রিয়াকর্ম করে যাওয়া যায় না।
১৫. ‘জেলাসিই হোক ফেলাসি-ই হোক…’জেলাসি ও ফেলাসি কথার অর্থ কী?
উত্তর: ‘জেলাসি’ অর্থাৎ ইংরেজি ‘jealousy’ শব্দের অর্থ হল হিংসা বা ঈর্ষা। অন্যদিকে ফেলাসি বা ইংরেজি ‘fallacy’ শব্দটি দর্শনশাস্ত্রের বিষয়, এর অর্থ ভ্রমাত্মক যুক্তি বা হেত্বাভাস।
১৬. ‘বোগাস ব্যাপার’-কোন্ ব্যাপারকে বোগাস বলা হয়েছে?
উত্তর: কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতা বিষয়টিকে বোগাস বলা হয়েছে। কোনি ও তার বন্ধুরা এই আলোচনা করছিল যে, এই প্রতিযোগিতায় ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ড নেই; এ ছাড়া তারা ভেবেছিল প্রতিযোগিতা চলাকালীন অনেকে জামায় টাকা আটকে দিয়ে যাবে, যা ঘটেনি। তাই একে বোগাস বলা হয়েছে।
১৭. ‘শত্রু-মিত্র বাছবিচার করে কি লাভ?’-কে, ক্ষিতীশকে কী পরামর্শ দিয়েছিল?
উত্তর: ভেলো ক্ষিতীশকে অ্যাপোলো ক্লাবে যোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল। জুপিটার ক্লাব থেকে বিতাড়িত হয়েও ক্ষিতীশ চিরশত্রু অ্যাপোলো ক্লাবে যেতে চায়নি। তাই ভেলো তাকে বোঝায় যে, সেখানে সে শেখাবার মতো ছেলেমেয়ে ও কাজ পাবে।
১৮. ‘তাই বহুকাল পর সে গঙ্গাস্নানে গিয়েছিল’ -কেন সে বহুকাল পর গঙ্গাস্নানে গিয়েছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশের স্ত্রী লীলাবতী প্রচুর জল খরচ করে, অথচ বাড়ির কলে জল আসে সামান্য। তাই ক্ষিতীশকে রাস্তার টিউবওয়েলে স্নান করতে হয়। কিন্তু সেদিন সকাল থেকেই টিউবওয়েল থেকে জল পড়ছিল না। তাই তাকে বহুকাল পর গঙ্গাস্নানে যেতে হয়েছিল।
১৯. ‘কোনি পা ছুঁড়ল’-কোন সময়ের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: গঙ্গার ঘাটে আম নিয়ে কোনি ও ভাদুর মধ্যে যখন চপুর লড়াই বেধেছিল, তখন ভাদু কোনির পিঠের ওপর বসে তার বাগলা, মাথা ধরে, কাদায় মুখটা ঘষে দেবার চেষ্টা করতে থাকে। তখনই কোনি পা ছুঁড়েছিল।
২০. ‘অমিয়া আর বেলা জুপিটার ছেড়ে অ্যাপোলোয় গিয়েছিল কেন?
উত্তর: ক্ষিতীশ সিংহ অমিয়া ও বেলার চুল কাটতে চেয়েছিলেন। তাদের পুরুষদের মতো বারবেল নিয়ে এক্সারসাইজ করতে বলেছিলেন। তাদের সাজ-পোশাক নিয়েও তিনি বিরক্ত ছিলেন। নিয়মানুবর্তিতায় বিশ্বাসী ক্ষিতীশের এই আচরণ মানতে না পেরে তারা অ্যাপোলোয় গিয়েছিল।
২১. ‘এই সুখ আপনার আছে?’-কোন্ সুখের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ক্ষিতীশ সিংহ নিজের শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ব্যায়াম করেন। সেইজন্য তাঁর এত খিদে হয় যে তখন সব কিছুই অমৃত মনে হয়। এই সুখ বিষ্ণু ধরের নেই।
২২. ‘চ বাড়ি যাই, এটা মাকে দিতে হবে’- এ কোনি এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: কোনি অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার জন্য সারাদিন বাড়ি ফিরতে পারেনি। তাই তার মা অত্যন্ত রাগ করেছিলেন। মায়ের রাগ শান্ত করার জন্য সে প্রতিযোগিতা থেকে পাওয়া ব্যাগ, তোয়ালে ও খাবার নিয়ে গিয়েছিল।
২৩. ‘ওরা ঠিক করেছে তোমাকে অপমান করবে’-কাদের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে ‘ওরা’ বলতে জুপিটার সুইমিং ক্লাবের সদস্য প্রেসিডেন্ট বিনোদ ভড়, সম্পাদক ধীরেন ঘোষ, যজ্ঞেশ্বর ভট্টাচার্য, চিফ ট্রেনার হতে ইচ্ছুক হরিচরণ মিত্র, বদু চাটুজ্জে প্রমুখের কথা বলা হয়েছে।
২৪. ‘জুটেছে আবার এক মেয়েমদ্দানি’- কাকে কেন মেয়েমদ্দানি বলা হয়েছে?
উত্তর: এখানে কোনির কথা বলা হয়েছে। ‘মরদ’ বা ‘মর্দ’ শব্দের অর্থ হল পুরুষ, যার স্ত্রীলিঙ্গ শব্দ হিসেবে ‘মদ্দানি’ বা ‘মর্দানি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কোনি ছেলেদের সঙ্গে ছেলেদের মতোই সাঁতার, মারামারি ইত্যাদি করে বেড়াত বলে গঙ্গাঘাটের এক বৃদ্ধ এই মন্তব্য করেছে।
২৫. ‘সারেগামা কর।-মালিশওয়ালার সারেগামা করার বর্ণনা দাও।
উত্তর: মালিশওয়ালা বিষ্ণু ধরের সারা আঙুলগুলো দিয়ে হারমোনিয়াম বাজাতে শুরু করেছিল। এর ফলে বিন্টুর সুড়সুড়ি লাগছিল।
২৬. ‘ইচ্ছে করে, খুব রোগা হয়ে যাই’-কে কেন এ কথা বলেছে?
উত্তর: ক্ষিতীশ বিষ্ণুচরণ ধরের চেয়ে বয়সে বড়ো হওয়া সত্ত্বেও শারীরিক দিক থেকে অনেক সক্ষম ও সুস্থ। কিন্তু বিষ্ণু এসে ধর তার তিন মণী চেহারা নিয়ে নড়াচড়াও করতে পারে না। তাই ক্ষিতীশের সক্ষমতা তার মধ্যে এই অনুশোচনার জন্ম দেয়।
২৭. ‘তক্তপোশে শুয়ে চোখ বুজে ক্ষিতীশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল’-কেন ক্ষিতীশ দীর্ঘশ্বাস ফেলল?
উত্তর: প্রশিক্ষক হিসেবে ক্ষিতীশ ছিল অত্যন্ত উচ্চমানের। শিষ্যের সাফল্যের জন্য শিষ্যকে সে যতটা পরিশ্রম করায়, সে নিজেও ততটাই কঠিন জীবনযাপন করে। স্বাস্থ্য ও সক্ষমতা সম্বন্ধে তার ধারণা ছিল অতি স্বচ্ছ। তা সত্ত্বেও তার মনোমতো কোনো শিষ্য ছিল না বলে সে দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল।
২৮. ‘বড় খাঁটি কথা বলে গেছেন’-কোন্ কথা?
উত্তর: ক্ষিতীশ কখনও নিমন্ত্রণ বাড়ি খায় না। তার ক্লাবের ছেলেমেয়েদের সে বলত যে, ‘ডাক্তার রায়’ অর্থাৎ ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় বলতেন, এক একটা বিয়েবাড়িতে নিমন্ত্রণ খেলে এক এক বছরের আয়ু কমে যায়। এই কথাটিকেই সে খাঁটি ভার কথা মনে করত।
২৯. ‘লীলাবতীর খাওয়ার সময় তাই কখনোই সে সামনে থাকে না’-লীলাবতীর খাওয়ার সময় সে সামনে না থাকার কারণ কী?
উত্তর: হিন্দু ধর্মীয় সংস্কার অনুযায়ী লীলাবতী তার স্বামীর এঁটো থালায় ভাত খেত। কিন্তু ক্ষিতীশের এতে আপত্তি ছিল। কারণ, বিষয়টি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। কিন্তু এই ব্যাপারে ক্ষিতীশের কোনো আপত্তি লীলাবতী শুনত না। তাই প্রতিবাদ হিসেবে সে লীলাবতীর খাওয়ার সময় সামনে থাকত না।
৩০. ‘একে স্পোর্ট বলতে ক্ষিতীশের ভীষণ আপত্তি-কাকে, কেন স্পোর্ট বলতে ক্ষিতীশের আপত্তি ছিল?
উত্তর: অবিরাম হাঁটা বিষয়টিতে বুদ্ধি লাগে না। গতি লাগে না। পেশির জোর প্রয়োজন হয় না। অন্য কারও সঙ্গে পাল্লা দিতেও হয় না। তাই বলদের মতো শুধু এই পাক খাওয়াকে নর স্পোর্ট বলতে ক্ষিতীশের আপত্তি আছে।
৩১. ‘আমি রোজ এক্সারসাইজ করি’-কী ধরনের এক্সারসাইজের কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: ক্ষিতীশ শরীরকে সুস্থ সবল রাখার জন্য রোজ এক্সারসাইজ করত। সে যেসব এক্সারসাইজ করত, তার মধ্যে ছিল আইসোমেট্রিক অর্থাৎ সম পরিমাপবিশিষ্ট ওজনের ব্যায়াম, ক্যালিসথেনিক অর্থাৎ শক্তি ও সৌন্দর্যবৃদ্ধিকর ব্যায়াম ও বারবেল অর্থাৎ উভয়পাশে ওজন বিশিষ্ট দণ্ড নিয়ে ব্যায়াম।
৩২. ‘নেতৃত্ব দিতে হলে সামনে থাকতে হয়’-এর কারণ কী?
উত্তর: দলনেতা বা নেত্রী একাধারে পথপ্রদর্শক, অগ্রদূত ও প্রেরণার উৎস। তাই তাকে সকলের সম্মুখে থাকতে হয়, যাতে তার বক্তব্য ও দেহভঙ্গিমা সকলের শ্রুতি ও দৃষ্টিগোচর হতে পারে। এইজন্য নেতৃত্ব দিতে হলে সামনে থাকতে হয়।
৩৩. ‘হঠাৎ বিষম খেয়ে কাশতে শুরু করল ক্ষিতীশ’-ক্ষিতীশের কাশির কারণ কী?
উত্তর: জুপিটার ক্লাবের সভায় চিফ ট্রেনারের পদপ্রার্থী হরিচরণ মিত্র জানিয়েছিলেন যে, তিনি ১৯৪৮ সালের লন্ডন অলিম্পিকে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এই নির্জলা মিথ্যে সহ্য করতে না পেরে ক্ষিতীশ বিষম খেয়ে কাশতে শুরু করেন।
৩৪. ‘তার পিছনে বসে আজকের সভাপতি’- সভাপতির পরিচয় দাও।
উত্তর: নেতাজি বালক সংঘের অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় সভাপতি ছিলেন গঙ্গার ঘাটে ক্ষিতীশের সঙ্গে পরিচিত হওয়া বিষ্ণুচরণ ধর। বিষ্ণুচরণ আই. এ. পাস, বনেদি বংশের মানুষ। তার সাতটি বাড়ি ও বড়োবাজারে ঝাড়ন মশলার ব্যাবসা আছে। তার দেহের ওজন সাড়ে তিন মণ।
৩৫. ‘সিনহা টেলারিং’ কী?
উত্তর: ক্ষিতীশ যখন দোকান চালাত, তার নাম ছিল ‘সিনহা টেলারিং’। তখন দুজন দর্জি জামা প্যান্ট তৈরি করত আর দেয়াল আলমারিতে ছিল কিছু সিন্থেটিক কাপড়। যদিও সাঁতার-প্রাণ হওয়ায় ক্ষিতীশের ব্যাবসায় মন না থাকায় দোকানটি বেশিদিন চলেনি।
৩৬. ‘এটা সমাজসেবার কাজ’-কোন্ কাজকে সমাজসেবার কাজ বলা হয়েছে?
উত্তর: হাঁটা প্রতিযোগিতার শেষে পুরস্কার বিতরণী সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে বিষ্ণুচরণ ধর ক্ষিতীশের কথার অনুকরণে এইসব কথা বলেছিল। ব্যায়াম যে কত উপকারী, তা বলার পর সে এইধরনের হাঁটা প্রতিযোগিতাকে সমাজসেবার কাজ বলে উল্লেখ করে।
৩৭. ‘ভয়ংকর এই শেষের ছ’ঘণ্টা। টিকতে পারবে কী?’-এ কথা ভাবার কারণ কী?
উত্তর: কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় শেষ ছ’ঘণ্টা কোনি টিকে থাকতে পারবে কিনা, এই প্রশ্ন ক্ষিতীশের মনে জেগেছিল। কারণ এই প্রতিযোগিতা থেকেই সে কোনির ধৈর্য, সহনশীলতা, একগুঁয়েমি ও অধ্যবসায় যাচাই করে নিতে চেয়েছিল।
৩৮. ‘দৃশ্যটা অনেককে আকৃষ্ট করল’-কোন্ দৃশ্য?
উত্তর: ক্ষিতীশ জগিং করতে করতে বিষ্ণু ধরের দিকে এগিয়ে আসছিল। তাই দেখে বিষ্ণু বুনো মোষের মতো তেড়েফুঁড়ে উঠে দাঁড়ালে সে দাঁড়িয়ে পড়েছিল। তারপর নাচের ভঙ্গিতে শরীরটাকে পেন্ডুলামের মতো ডানে-বাঁয়ে দুলিয়ে লাফাতে লাগল। বিষ্ণু এইসময় থাবার মতো হাত তুলে অপেক্ষা করছিল। এই দৃশ্যের কথা বলা হয়েছে।
৩৯. ‘কেন মনে হল, ক্ষিতীশ তা ব্যাখ্যা করতে পারবে না’-কী মনে হওয়ার কথা বলা হয়েছে?
উত্তর: কুড়ি ঘণ্টা অবিরাম হাঁটা প্রতিযোগিতায় কোনি ক্লান্ত হয়ে পড়লেও যেভাবে মাথা তুলে পাতলা দেহটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল, তা দেখে ক্ষিতীশের মনে হয়েছিল আকাশ থেকে আগুন ঝরলেও কোনির চলা থামবে না।
৪০. ‘আপনাকে সব বলছি-বিষ্ণুচরণ ক্ষিতীশকে কী কী কথা বলেছিল?
উত্তর: বিচরণ ক্ষিতীশকে নিজের গাড়িতে বসিয়ে জানিয়েছিল যে, সে আগামী সাধারণ নির্বাচনে দাঁড়াবে; তাই এখন থেকেই সে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় নানা অনুষ্ঠানে সে টাকা দিচ্ছে ও সভাপতি হয়ে বক্তৃতা দিচ্ছে। নির্দল সমাজসেবক হিসেবে সে ভোট চাইবে।
৪১. ‘বারুণীর দিন বামুনেরা কী কী করে?
উত্তর: বাবুণীর দিন বামুনেরা ঘাটের মাথায় ট্রেন লাইনের দিকে মুখ করে বসে পয়সা নিয়ে জামাকাপড় জমা রাখে, গায়ে মাখার সরষে বা নারকেল তেল দেয় এবং কপালে চন্দনের ছাপ আঁকে।
৪২. ‘হয় আম দিবি নয় চোখ নোব’-কে, কার প্রতি এই উক্তি করেছিল?
উত্তর: কোনি ভাদুকে এই কথা বলেছিল। বাবুণীতে গঙ্গা থেকে আম নেওয়ার প্রতিযোগিতায় একটি আমের অধিকার রক্ষা করতে কোনি এই কথা বলেছিল।
৪৩. ‘ছেলে ফেল করলে দোষটা মাস্টার মশায়েরও’ -কথাটির অর্থ বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: জুপিটার ক্লাবের সাঁতারুদের অভিযোগের উত্তরে ক্ষিতীশ যখন জানায় যে, তারা যথেষ্ট পরিশ্রম করে না, অলস ও ফাঁকিবাজ-তখন ক্লাবের সদস্য কার্তিক সাহা ক্ষিতীশের দিকে আঙুল তুলে উক্তিটি করে। অর্থাৎ দোষ সমানভাবে কোচ হিসেবে ক্ষিতীশেরও।
৪৪. ‘জোর বলতে শুধু গায়ের জোরই বোঝায় না’-জোর বলতে কোন্ কোন্ জোর বোঝায়?
উত্তর: গায়ের জোর ছাড়াও মানুষ আর যে যে ভাবে নিজের জোর বাড়াতে পারে, সেগুলি হল ইচ্ছাশক্তির জোর, বৃদ্ধিবৃত্তির জোর। ইচ্ছাশক্তি বা মনের জোর শুধু মানুষেরই একচেটিয়া। অন্য প্রাণীদের সেই ক্ষমতা নেই।
৪৫. ‘বিন্টু ধরের পরিচয় দাও।
উত্তর: বিচরণ ধর আই. এ. পাস, অত্যন্ত বনেদি বংশের লোক। প্রায় সাতটা বাড়ির মালিক। বড়োবাজারে তাঁর ঝাড়নমশলার কারবার। তাঁর দেহের ওজন সাড়ে তিন মণ।
৪৬. ‘ক্ষিতীশের চেহারা কেমন ছিল?
উত্তর: ক্ষিতীশ সিংহের চোখে পুরু লেন্সের চশমা, মাথায় কাঁচাপাকা কদমছাঁট চুল, বয়স পঞ্চাশের আশেপাশে, গায়ের রং ধুলোমাখা পোড়ামাটির মতো আর চোখের মণি ধূসর।
৪৭. ‘বারুণী কী?
উত্তর: হিন্দুধর্মমতে শতভিযা নক্ষত্রযুক্ত চৈত্রমাসের কৃষ্ণ ত্রয়োদশীতে গঙ্গাপুজা ও গঙ্গাস্নানে পুণ্যলাভ হয়। এদিন গঙ্গায় কাঁচা আম বিসর্জন দেওয়া হয়। একেই বারুণী বলে।
৪৮. ‘বাবুণীর দিন ছেলেরা জল থেকে কাঁচা আম স্কুলে নিয়ে কী করে?
উত্তর: বাবুণীর দিন ছেলেরা জল তোলপাড় করে কাঁচা আম তুলে নিয়ে গিয়ে পথের ধারের বাজারে অনেক কম দামে বিক্রি করে।
৪৯. শরীরটাকে চাকর বানানো বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: শরীরটাকে চাকর বানানোর অর্থ হল, যে-কোনো খাবার খেয়ে হজম করা, পাঁচ মাইল হেঁটে যাওয়া, গাছের ডাল ধরে ঝুলে থাকা-অর্থাৎ নিজের ইচ্ছায় সব ধরনের কাজ করার মতো স্বাস্থ্য অর্জন করা।
৫০. মালিশওয়ালা বিষ্ণু ধরকে কী কী ভাবে মালিশ করেছিল?
উত্তর: মালিশওয়ালা তার ডান হাঁটু বিন্টুর কোমরে চেপে মেরুদণ্ড বরাবর ঘাড় পর্যন্ত ওঠানামা করাতে লাগল। এরপর হাতের তালু জোড়া করে বিষ্ণুর পিঠে কোদালের মতো চালাতে লাগল। তারপর তানপুরা, তবলা ও সারেগামা বাজানোর ঢঙে মালিশ করেছিল।
আরও পড়ুন👇
গল্প
জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী
- জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী MCQ
- জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী QUIZ
- জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী SAQ
বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ
পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
- পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় MCQ
- পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় QUIZ
- পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় SAQ
নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
- নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় MCQ
- নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় QUIZ
- নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় SAQ
অদল বদল (গল্প) পান্নালাল প্যাটেল
- অদল বদল (গল্প) পান্নালাল প্যাটেল MCQ
- অদল বদল (গল্প) পান্নালাল প্যাটেল QUIZ
- অদল বদল (গল্প) পান্নালাল প্যাটেল SAQ
কবিতা
অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা
- অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা MCQ
- অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা QUIZ
- অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা SAQ
আয় আরো বেধে বেধে থাকি (কবিতা) শঙ্খ ঘোষ
- আয় আরো বেধে বেধে থাকি (কবিতা) শঙ্খ ঘোষ MCQ
- আয় আরো বেধে বেধে থাকি (কবিতা) শঙ্খ ঘোষ Quiz
- আয় আরো বেধে বেধে থাকি (কবিতা) শঙ্খ ঘোষ SAQ
আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
- আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর MCQ
- আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর Quiz
- আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর SAQ
অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত
- অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত MCQ
- অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত Quiz
- অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত SAQ
প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম
- প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম MCQ
- প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম Quiz
- প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলাম SAQ
অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (কবিতা) জয় গোস্বামী
- অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (কবিতা) জয় গোস্বামী MCQ
- অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (কবিতা) জয় গোস্বামী Quiz
- অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (কবিতা) জয় গোস্বামী SAQ
সিন্ধুতীরে (কবিতা) সৈয়দ আলাওল
- সিন্ধুতীরে (কবিতা) সৈয়দ আলাওল MCQ
- সিন্ধুতীরে (কবিতা) সৈয়দ আলাওল Quiz
- সিন্ধুতীরে (কবিতা) সৈয়দ আলাওল SAQ
মাধ্যমিক বাংলা প্রবন্ধ
হারিয়ে যাওয়া কলি কলম (প্রবন্ধ) নিখিল সরকার
- হারিয়ে যাওয়া কলি কলম (প্রবন্ধ) নিখিল সরকার MCQ
- হারিয়ে যাওয়া কলি কলম (প্রবন্ধ) নিখিল সরকার Quiz
- হারিয়ে যাওয়া কলি কলম (প্রবন্ধ) নিখিল সরকার SAQ
বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু MCQ
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু Quiz
- বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু SAQ
মাধ্যমিক বাংলা নাটক
সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত
- সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত MCQ (Set 1)
- সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত MCQ (Set 2)
- সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত Quiz (Set 1)
- সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত Quiz (Set 2)
মাধ্যমিক বাংলা সহায়ক পাঠ
