আয় আরও বেঁধে বেঁধে থাকি SAQ | Class 10 Bangla

১। ‘আমাদের মাথায় বোমারু’—‘বোমারু’ শব্দটির দ্বারা কবি কোন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিয়েছেন?
উত্তর: ‘বোমারু’ শব্দটির দ্বারা কবি শঙ্খ ঘোষ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করেছেন। বোমারু বিমান যেমন আকাশপথে অতর্কিতে হামলা চালায়, তেমনি সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আচমকা আক্রমণে মানুষের জীবন আজ সদাসর্বদা বিপন্ন।

২। “আমরা ফিরেছি দোরে দোরে”—দোরে দোরে ফিরেছি কেন?
উত্তর: যুদ্ধ ও ধ্বংসের ফলে মানুষ যখন গৃহহারা, আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে, তখন একটু নিরাপত্তা, খাদ্য ও বেঁচে থাকার জন্য তারা এক দরজা থেকে আরেক দরজায় সাহায্যের আশায় ঘুরেছে। এই ‘দোরে দোরে ফেরা’ হলো সাধারণ মানুষের অসহায়ত্ব ও মুখাপেক্ষিতার করুণ চিত্র।

৩। ‘আমাদের পথ নেই আর’—এই অবস্থায় আমাদের করণীয় কী?
উত্তর: এই দিশাহীন ও সংকটপূর্ণ অবস্থায় কবি আমাদের একমাত্র করণীয় হিসেবে আরো দৃঢ়ভাবে সংঘবদ্ধ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মতে, পারস্পরিক ঐক্য, সহমর্মিতা এবং হাতে হাত রেখে前进ই এই প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার একমাত্র পথ।

৪। “তবু তো কজন আছি বাকি”—বলার কারণ কী?
উত্তর: যুদ্ধের ভয়াবহতা, আশ্রয়হীনতা ও মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েও এখনো কিছু মানুষ টিকে আছেন, যারা মানবতায় বিশ্বাস হারায়নি। এই ‘তবু তো’ শব্দদ্বয়ের মাধ্যমে ভয়ানক প্রতিকূলতার মধ্যেও বেঁচে থাকা সেই শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের অস্তিত্বের দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

৫। ‘আমাদের ইতিহাস নেই’—এ কথা বলা হয়েছে কেন?
উত্তর: পৃথিবীর সামগ্রিক ইতিহাসই হলো ক্ষমতাবান ও শাসকগোষ্ঠীর ইতিহাস। সাধারণ, নিরীহ, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনসংগ্রাম, বঞ্চনা ও ত্যাগের কোনো স্থান ইতিহাসে থাকে না। তাই কবি সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হয়ে বলেছেন, ‘আমাদের ইতিহাস নেই’।

৬। “আমাদের কথা কে বা জানে?”—বলার কারণ কী?
উত্তর: এই ব্যক্তিসর্বস্ব ও বিচ্ছিন্নতার যুগে, সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রাম, দুঃখ-কষ্ট এবং মৌলিক প্রয়োজনীয়তার কথা কেউ শোনে না বা জানতে চায় না। সমাজ ও রাষ্ট্রের কর্ণধারদের এই উদাসীনতা এবং সাধারণ মানুষের প্রতি অবহেলাকেই কবি এই প্রশ্নের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন।

৭। ‘আমাদের শিশুদের শব ছড়ানো রয়েছে কাছে দূরে’—এমন বলার কারণ কী?
উত্তর: আজকের যুদ্ধবিধ্বস্ত, হিংসাকবলিত পৃথিবীতে শিশুরাও নিরাপত্তাহীন। সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির নির্বিচার বোমাবর্ষণ ও সন্ত্রাসের ফলে কাছেই হোক বা দূরেই হোক, শিশুরা নিহত হচ্ছে। শিশুদের এই নিষ্ঠুর মৃত্যুই কবিকে এমন মন্তব্য করতে বাধ্য করেছে।

৮। “পৃথিবী হয়তো বেঁচে আছে”—’হয়তো’ শব্দটি ব্যবহারের কারণ কী?
উত্তর: ‘হয়তো’ শব্দটি ব্যবহারের মাধ্যমে কবি পৃথিবীর বেঁচে থাকা নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন। বাহ্যিকভাবে পৃথিবী থাকলেও যুদ্ধ, হিংসা ও মানবতাবিরোধী কার্যকলাপে它 যে তার প্রকৃত প্রাণশক্তি ও সত্ত্বা হারিয়ে ফেলেছে, সেই সন্দেকই ‘হয়তো’ শব্দের মধ্যে নিহিত।

৯। ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’—এ কথা বলার কারণ কী?
উত্তর: কবি শঙ্খ ঘোষ বিশ্বাস করেন যে, যুদ্ধ, হিংসা ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের এই প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের পক্ষে একা বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। তাই তিনি সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষকে পরস্পরের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে, সংঘবদ্ধ হয়ে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। সংঘবদ্ধ থাকলেই যেকোনো বিপর্যয়ের মোকাবিলা করা সহজ হবে।

১০। ‘আমাদের ঘর গেছে উড়ে’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: যুদ্ধের ভয়াবহ আক্রমণে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ‘ঘর গেছে উড়ে’ বলতে শুধু বাড়িঘর নয়, মানুষের আশ্রয়, নিরাপত্তা ও স্বস্তির জগৎ চূর্ণবিচূর্ণ হওয়াকেই বোঝানো হয়েছে।

১১। “আমাদের চোখমুখ ঢাকা”—’চোখমুখ ঢাকা’র কারণ কী?
উত্তর: ‘চোখমুখ ঢাকা’র মাধ্যমে কবি সাধারণ মানুষের নিষ্ক্রিয়তা ও নিঃশব্দতাকে বোঝাতে চেয়েছেন। শাসকগোষ্ঠীর অত্যাচার ও শোষণের ফলে মানুষ এমনই আতঙ্কিত ও দমিত হয়ে পড়েছে যে, তারা প্রকৃত সত্য দেখতেও ভয় পায় এবং প্রতিবাদ করতে পারে না। তাদের দৃষ্টি ও বাকশক্তি যেন অন্ধকারে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।

১২। ‘ডান পাশে ধ্বস’ ও ‘বাঁয়ে গিরিখাদ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘ধ্বস’ ও ‘গিরিখাদ’—দুটিই পাহাড়ি অঞ্চলের বিপদসংকুল স্থানের প্রতীক। কবি এগুলোর মাধ্যমে মানুষের জীবনের পদে পদে অপমৃত্যু ও চূড়ান্ত পতনের আশঙ্কার কথা ব্যক্ত করেছেন।

১৩। “আয় আরো হাতে হাত রেখে”—পঙ্ক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ কী?
উত্তর: এই পঙ্ক্তিটির অন্তর্নিহিত অর্থ হলো সংঘবদ্ধতা ও একাত্মতা। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও কবি বিবেকবান ও শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষদের পরস্পরের হাত শক্ত করে ধরে রাখতে, মানববন্ধন গড়ে তুলতে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদী হতে আহ্বান জানান।

১৪। “পৃথিবী হয়তো গেছে মরে”—এমন ধারণার কারণ কী?
উত্তর: শাসকের আগ্রাসন, যুদ্ধ, দাঙ্গা ও রাজনৈতিক অবক্ষয়ের ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে বেঁচে থাকার অর্থ ও আনন্দ সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে গেছে। মানবতার এই ঘোর দুর্দিনে পৃথিবী যেন প্রাণহীন, নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে—এই বোধ থেকেই কবির এমন ধারণা।

১৫। ‘আমাদের’ বলতে কবি কাদের বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ কবিতায় ‘আমাদের’ বলতে কবি দেশ-কালের সীমা অতিক্রম করে সাম্রাজ্যবাদী ও হানাদারি শক্তির হাতে আক্রান্ত, যুদ্ধবিধ্বস্ত, নিরাশ্রয় ও সর্বহারা সাধারণ মানুষকে বুঝিয়েছেন।

১৬। “এ-মুহূর্তে মরে যাব না কি?”—‘এ-মুহূর্তে’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: ‘এ-মুহূর্তে’ বলতে কবি সেই সংকটকালীন সময়কেই বোঝাতে চেয়েছেন, যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত পটভূমিতে খাদ্য ও আশ্রয়হারা মানুষের বেঁচে থাকাটাই প্রায় অনিশ্চিত। চারদিকের হানাহানি, মৃত্যু আর ধ্বংসের মাঝে নিজেদেরও যে কোনো মুহূর্তে মৃত্যু হতে পারে—সেই ভয়ঙ্কর মুহূর্তের কথাই এখানে বলা হয়েছে।

১৭। “আমরা ভিখারি বারোমাস”—এটি কোন অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ?
উত্তর: এটি সাধারণ মানুষের সীমাহীন দারিদ্র্য ও চিরন্তন বঞ্চনার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির শোষণে নিপীড়িত, হতভাগ্য মানুষ আজ আশ্রয় ও জীবিকা হারিয়ে সারাবছর, সারা জীবনই ভিখারির মতো জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছে।

১৮। ‘পায়ে পায়ে হিমানীর বাঁধ’—‘হিমানীর বাঁধ’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তর: ‘হিমানীর বাঁধ’ বলতে কবি মানুষের চলার পথের অসহ্য প্রতিবন্ধকতাকে বোঝাতে চেয়েছেন। যেভাবে বরফ পাহাড়ি পথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে দুর্লঙ্ঘ্য বাধার সৃষ্টি করে, তেমনি হিংসার উন্মত্ততা ও শত্রুর যুদ্ধযজ্ঞ মানুষের বেঁচে থাকাকে দুঃসহ করে তুলেছে।

১৯। ‘আমাদের পথ নেই আর’—এরকম মন্তব্যের কারণ কী?
উত্তর: কবির মতে, হিংসাময়, অস্থির ও প্রতিকূল পরিবেশে মানুষের ডানে-বাঁয়ে, মাথার উপরে ও পায়ের নিচে সর্বত্রই বিপদ ছড়িয়ে আছে। যে কোনো দিকে পা বাড়ালেই চূড়ান্ত অঘটন বা মৃত্যু ঘটার আশঙ্কা থাকে। এই দিশাহীনতা ও চলার পথের অসীম বাধাই ‘পথ নেই’ বলার কারণ।

২০। “অথবা এমনই ইতিহাস”—পঙ্ক্তিটির বক্তব্য বিষয় লেখো।
উত্তর: এই পঙ্ক্তিটির মাধ্যমে কবি বলতে চেয়েছেন যে, সাধারণ মানুষের ইতিহাস হল চিরকালীন বঞ্চনা, লাঞ্ছনা ও নির্যাতনের ইতিহাস। তাদের ইতিহাসে গৌরব বা জয়গান নেই, আছে কেবলই শোষণ ও অন্ধকারে ডুবে থাকার করুণ কাহিনি। এটি তাদের ভাগ্যের নিয়মিত ও একঘেয়েমিপূর্ণ ইতিহাস।

২১। ‘বেঁধে বেঁধে থাকি’—বেঁধে বেঁধে থাকার অর্থ কী?
উত্তর: ‘বেঁধে বেঁধে থাকা’র অর্থ হলো পরস্পরের সঙ্গে মিলেমিশে, একসূত্রে গাঁথা থেকে, সংঘবদ্ধ হয়ে সহমর্মিতা ও একাত্মতার সঙ্গে বেঁচে থাকা। এটি কোনো জোরপূর্বক বাঁধন নয়, বরং পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সহানুভূতির বন্ধন।

২২। কবি কখন ‘আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি’ বলতে মনে করেন?
উত্তর: হিংসায় উন্মত্ত পৃথিবীতে, যখন বোমারু বিমানের হানায় ও যুদ্ধের বিভীষিকায় মানুষের জীবন প্রতিমুহূর্তে বিপন্ন হয়, মৃত্যুভয় তাড়া করে ফেরে এবং চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপই দৃশ্যমান হয়, ঠিক সেই সংকটময় মুহূর্তে কবি ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য এমন আহ্বান জানাতে মনে করেন।

২৩। “কবি কার হাতে হাত রেখে” কী করতে চাইছেন?
উত্তর: কবি সমস্ত সাধারণ মানুষের হাতে হাত রেখে একটি শান্তি ও মানবতার বন্ধন গড়ে তুলতে চাইছেন। তিনি চান না যে মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ুক। তাঁর এই আহ্বান হলো একটি প্রতিবাদী মানবঐক্যের ডাক, যার মাধ্যমে যুদ্ধ ও ধ্বংসের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব।

২৪। ‘আমাদের ডান পাশে’ আর ‘বাঁয়ে’ কী আছে?
উত্তর: কবিতায় আমাদের ‘ডান পাশে ধ্বস’ এবং ‘বাঁয়ে গিরিখাদ’ রয়েছে।

২৫। কবিতাটির প্রেক্ষাপট বা পটভূমি কী?
উত্তর: কবিতাটির পটভূমি হলো যুদ্ধবিধ্বস্ত, হিংসায় আক্রান্ত একটি বিপন্ন বিশ্ব। সাম্রাজ্যবাদী শক্তির আগ্রাসন, বোমাবর্ষণ, গৃহহীনতা ও শিশু-নিরীহ মানুষের মৃত্যু এই কবিতার প্রেক্ষাপট গড়ে উঠেছে। এটি একটি যুদ্ধপরবর্তী বা যুদ্ধকালীন ভয়াবহ পরিস্থিতির চিত্রণ।

আরও পড়ুন👇

গল্প

জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী

বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ

পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অদল বদল (গল্প) পান্নালাল প্যাটেল

কবিতা

অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা

আয় আরো বেধে বেধে থাকি (কবিতা) শঙ্খ ঘোষ

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলা

অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (কবিতা) জয় গোস্বামী

সিন্ধুতীরে (কবিতা) সৈয়দ আলাওল

মাধ্যমিক বাংলা প্রবন্ধ

হারিয়ে যাওয়া কলি কলম (প্রবন্ধ) নিখিল সরকার

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু

মাধ্যমিক বাংলা নাটক

সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত

মাধ্যমিক বাংলা সহায়ক পাঠ

কোনি (সহায়ক পাঠ) মতি নন্দী

Leave a Reply