আফ্রিকা- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর SAQ | Class 10 Bangla

১. ‘উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম যুগে’ কী ঘটেছিল?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “আফ্রিকা” কবিতায় উদ্ভ্রান্ত আদিম যুগে স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে তাঁর সৃষ্টিকে নিখুঁত করার জন্য সৃষ্টিকে বারবার বিধ্বস্ত করছিলেন।

২. ‘এল মানুষ-ধরার দল’ – মানুষ-ধরার দল বলতে কাদের বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় নির্মম অত্যাচারী ও দাসব্যবসায়ী ঔপনিবেশিক শ্বেতাঙ্গ শাসকদের ‘মানুষ-ধরার দল’ বলা হয়েছে।

৩. ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ‘কৃপণ আলোর অন্তঃপুরে’ কথাটির অর্থ যেখানে আলোর প্রবেশপথ সুগম নয়। এটি জঙ্গলময় আফ্রিকার দুর্গম ও অন্ধকার রহস্যময়তার প্রতীক।

৪. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে, আফ্রিকা’ – কে, কোথা থেকে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে গেল?
উত্তরঃ কবিতা অনুসারে, উত্তাল সমুদ্র প্রাচী ধরিত্রীর হৃদয় থেকে অর্থাৎ পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

৫. ‘পঙ্কিল হলো ধূলি তোমার রক্তে অশ্রুতে মিশে’ – কীভাবে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি আফ্রিকার মানুষদের ক্রীতদাস বানানোর সময় তাদের ওপর বর্বর অত্যাচার চালায়। তাদের রক্ত ও অশ্রুতে আফ্রিকার মাটি কর্দমাক্ত হয়ে উঠেছিল।

৬. ‘নখ যাদের তীক্ষ্ণ তোমার নেকড়ের চেয়ে’ – এর দ্বারা কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তরঃ কবি আফ্রিকার মানুষদের ওপর সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকের বর্বর ও পাশবিক অত্যাচারের ভয়াবহতার কথা বলতে গিয়ে তাদের বন্য নেকড়ের চেয়েও নিষ্ঠুর এবং হিংস্র বলে অভিহিত করেছেন।

৭. ‘এল ওরা লোহার হাতকড়ি নিয়ে’ – ‘ওরা’ কারা?
উত্তরঃ ‘ওরা’ বলতে অত্যাচারী ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের বোঝানো হয়েছে, যারা আফ্রিকার মানুষদের বন্দি করে ক্রীতদাসে পরিণত করেছিল।

৮. ‘এসো যুগান্তের কবি’ – যুগান্তের কবিকে কীভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ‘যুগান্তের কবি’-কে আহ্বান জানিয়েছেন ‘মানহারা মানবী’ তথা আফ্রিকার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সকলের হয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করার জন্য।

৯. ‘শিশুরা খেলছিল মায়ের কোলে’ – এই দৃশ্য কখন ঘটছিল?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে, বর্বর শ্বেতাঙ্গ শাসকের হাতে আফ্রিকার মানুষেরা যখন শোষিত ও অত্যাচারিত হচ্ছিল, তখনই সমুদ্রপারে ইউরোপে শিশুরা নিরাপদে মায়ের কোলে খেলছিল।

১০. ‘কালো ঘোমটার নীচে অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ’ – ‘কালো ঘোমটা’ কী?
উত্তরঃ আদিম অরণ্যে ঘেরা আফ্রিকার যে ছায়া ও অন্ধকারের বিস্তার, তাকেই ‘কালো ঘোমটা’ আখ্যায়িত করা হয়েছে।

১১. কার, কাদের কাছে মানবরূপ অপরিচিত ছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকা মহাদেশের মানবরূপ সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির কাছে উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে অপরিচিত ছিল।

১২. ‘হায় ছায়াবৃতা’ – আফ্রিকাকে ‘ছায়াবৃতা’ বলার কারণ কী?
উত্তরঃ মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আফ্রিকা জ্ঞানালোক থেকে বিচ্ছিন্ন হয় এবং তার দুর্গম ও আদিম জঙ্গলাকীর্ণ প্রকৃতি তাকে চিরকাল ছায়াবৃত করে রেখেছিল।

১৩. ‘গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে’ – তারা কী করল?
উত্তরঃ উন্নত সভ্যতার গর্বে অন্ধ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি লোহার হাতকড়ি দিয়ে আফ্রিকার মানুষদের কৌশলে বন্দি করল এবং ক্রীতদাস বানাল।

১৪. ‘নগ্ন করল আপন নির্লজ্জ অমানুষতা’ – কীভাবে এই অমানুষতা প্রকাশ পেল?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবিস্তারের লক্ষ্যে মানুষ মানুষকে দীর্ঘকাল ধরে শিকল পরিয়েছে, সম্পদ লুটেছে ও সংস্কৃতি ধ্বংস করেছে। এই বর্বর লোভের মধ্য দিয়েই তাদের নির্লজ্জ অমানুষতা প্রকাশ পেয়েছে।

১৫. ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে’ – ‘চিরচিহ্ন’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী ও ঔপনিবেশিক শাসকের অত্যাচারে-অপমানে যুগ যুগ ধরে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কলঙ্কিত ইতিহাসকে কবি ‘চিরচিহ্ন’ শব্দটির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন।

১৬. ‘সমুদ্রপারে সেই মুহূর্তেই’ – কোন মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ঔপনিবেশিক শক্তির কাছে আফ্রিকা যখন শোষিত ও লাঞ্ছিত হচ্ছিল, সেই মুহূর্তের কথা বলা হয়েছে।

১৭. সমুদ্রপারে তখন কী ঘটছিল?
উত্তরঃ আফ্রিকা যখন অত্যাচারিত হচ্ছিল, তখন সমুদ্রপারে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলির মন্দিরে পুজোর ঘণ্টা বাজছিল, শিশুরা মায়ের কোলে খেলছিল আর কবিরা সুন্দরের আরাধনা করছিলেন।

১৮. ‘কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল’ – কী বেজে উঠেছিল?
উত্তরঃ কবির সংগীতে বেজে উঠেছিল সুন্দরের আরাধনা।

১৯. ‘প্রদোষকাল’ বলতে কোন সময়কে বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ প্রদোষকাল বলতে সান্ধ্যকাল বা দিনের অন্তিম সময়কে বোঝানো হয়েছে।

২০. ‘আজ যখন পশ্চিম দিগন্তে/প্রদোষকাল ঝঞ্ঝাবাতাসে রুদ্ধশ্বাস’ – উদ্ধৃতাংশে কোন রাজনৈতিক ঘটনার স্পর্শ রয়েছে?
উত্তরঃ উদ্ধৃতাংশে আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের প্রতি শ্বেতাঙ্গ মানুষদের এবং তথাকথিত সভ্য রাষ্ট্রগুলির অত্যাচার ও উৎপীড়নের মতো রাজনৈতিক ঘটনার ছোঁয়া রয়েছে।

২১. ‘গুপ্ত গহ্বর থেকে পশুরা বেরিয়ে এসে কী ঘোষণা করেছিল?
উত্তরঃ গুপ্ত গহ্বর থেকে বেরিয়ে এসে পশুরা দিনের অন্তিমকাল ঘোষণা করেছিল।

২২. ‘বলো ক্ষমা করো’ – কীসের জন্য এই ক্ষমাপ্রার্থনা?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসহ সভ্য দুনিয়া যুগ যুগ ধরে আফ্রিকার সংস্কৃতি ও জনজাতির ওপর বর্বরোচিত শোষণ চালিয়েছে, তার জন্য মানবসভ্যতার প্রতিনিধি হয়ে যুগান্তের কবির এই ক্ষমাপ্রার্থনা।

২৩. ‘সেই হোক তোমার সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী’ – সভ্যতার শেষ ‘পুণ্যবাণী’-টি কী?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মনে করেন, যুগান্তের কবির কণ্ঠে সভ্যতার শেষ ‘পুণ্যবাণী’-টি হওয়া উচিত ‘ক্ষমা করো’।

২৪. আফ্রিকা নিভৃত অবকাশে কী করছিল?
উত্তরঃ সমুদ্র যখন পূর্বাঞ্চলীয় ভূখণ্ড থেকে আফ্রিকাকে বিচ্ছিন্ন করেছিল, তখন অরণ্যের অন্ধকারে আফ্রিকা দুর্গমের রহস্য সংগ্রহে ব্যস্ত ছিল।

২৫. ‘চিনেছিলে জলস্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেত’ – কে চিনেছিল?
উত্তরঃ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতা থেকে গৃহীত প্রশ্নোদ্ধৃত অংশে জল-স্থল-আকাশের দুর্বোধ সংকেতকে আফ্রিকা চিনেছিল।

২৬. ‘ছায়াবৃতা’ আফ্রিকার মুখ কোথায় লুকানো ছিল?
উত্তরঃ ছায়াবৃতা আফ্রিকার মুখ লুকানো ছিল কালো ঘোমটার নীচে, অর্থাৎ আদিম অরণ্যের অন্ধকারে।

২৭. ‘মানহারা মানবীর দ্বারে’ কাকে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় যুগান্তের কবিকে মানহারা মানবীর দ্বারে দাঁড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

২৮. ‘শঙ্কাকে চাচ্ছিলে হার মানাতে’ – কে, কীভাবে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল?
উত্তরঃ দুর্গম, দুর্ভেদ্য ছায়াবৃতা আফ্রিকা নিজেকে উগ্র করে বিভীষিকার প্রচণ্ড মহিমায়, বিধ্বংসী তাণ্ডবলীলার প্রচণ্ড শব্দে শঙ্কাকে হার মানাতে চেয়েছিল।

২৯. ‘বিদ্রূপ করেছিলে ভীষণকে’ – কীভাবে ‘বিদ্রূপ’ করেছিল?
উত্তরঃ পাঠ্য কবিতা অনুসারে আফ্রিকা মহাদেশ আদিম রহস্যময়তায় ভর করে ভয়াবহ ভীষণকেই যেন বিদ্রূপ করেছিল।

৩০. ঔপনিবেশিকদের আগমনে আফ্রিকার অবস্থা কী হয়েছিল?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অমানবিক অত্যাচারে সাধারণ মানুষের রক্তে ও অশ্রুতে আফ্রিকার বনপথের ধুলো কর্দমাক্ত হয়েছে। শাসকের কাঁটা-মারা জুতোর তলার কাদার পিণ্ড আফ্রিকার ইতিহাসে চিরচিহ্ন এঁকে যায়।

৩১. ‘স্রষ্টা যখন নিজের প্রতি অসন্তোষে’ – স্রষ্টা নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট ছিলেন কেন?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে, উদ্ভ্রান্ত সেই আদিম সময়ে স্রষ্টা তাঁর নিজের সৃষ্টির মধ্যে খুঁত বা ঘাটতি দেখে বিরূপতায় নিজের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠেছিলেন।

৩২. ‘তোমার চেতনাতীত মনে’ – ‘চেতনাতীত’ কথাটি কী অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় কল্পনা করা যায় এমন সময়কালেরও আগেকার সময়কে বোঝাতে ‘চেতনাতীত’ শব্দটিকে ব্যবহার করা হয়েছে।

৩৩. ‘সভ্যের বর্বর লোভ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ ইউরোপের তথাকথিত ‘সভ্য’ জাতিগুলি আফ্রিকায় উপনিবেশ স্থাপন করে সেখানকার সম্পদ লুঠ করে স্থানীয় মানুষদেরকে ক্রীতদাসে পরিণত করে। এই নির্মমতাকেই কবি শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদীদের ‘বর্বর লোভ’ বলে অভিহিত করেছেন।

৩৪. ‘নতুন সৃষ্টিকে বারবার করছিলেন বিধ্বস্ত’ – নতুন সৃষ্টিটি কী?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘আফ্রিকা’ কবিতায় নতুন সৃষ্টি বলতে এই পৃথিবীর আদিম শৈশবের কথা বলেছেন।

৩৫. ‘এল মানুষ-ধরার দল’ – মানুষ ধরার দলের স্বভাব কেমন ছিল?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতায় ‘মানুষ-ধরার দল’ অর্থাৎ সাম্রাজ্যবাদী শ্বেতাঙ্গ শাসকেরা ছিল নিষ্ঠুর অত্যাচারী দাসব্যবসায়ী। তারা পীড়ন-অপমান ও লাঞ্ছনায় আফ্রিকাকে বিধ্বস্ত করেছিল।

৩৬. ‘ছিনিয়ে নিয়ে গেল তোমাকে’ – ‘তোমাকে’ বলতে কাকে বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আফ্রিকা’ কবিতা অনুসারে পৃথিবীর আদিম শৈশবে উত্তাল সমুদ্র, ধরিত্রীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়েছিল।

৩৭. ‘মন্দিরে বাজছিল পূজার ঘণ্টা’ – কেন এই পুজোর ঘণ্টা বাজছিল?
উত্তরঃ সকাল এবং সন্ধ্যায় দয়াময় দেবতার নাম স্মরণ করে ঔপনিবেশিক প্রভুদের মন্দিরে পুজোর ঘণ্টা বাজছিল।

৩৮. আফ্রিকার ধুলো কীভাবে পঙ্কিল হল?
উত্তরঃ অত্যাচারী ইউরোপীয়রা আফ্রিকার কালো মানুষদের বন্দি করে, ক্রীতদাস বানিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরই রক্ত আর চোখের জলে আফ্রিকার ধুলো যেন কাদা হয়ে উঠেছিল।

৩৯. আফ্রিকা উপেক্ষিত কেন?
উত্তরঃ আফ্রিকার প্রাকৃতিক দুর্গমতা ও রহস্যময়তা পৃথিবীর বাকি অংশ থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে। আধুনিক সভ্যতার আলো সেখানে প্রবেশ করতে পারেনি, তাই সে উপেক্ষিত।

৪০. ‘তাঁর সেই অধৈর্যে ঘন-ঘন মাথা নাড়ার দিনে’ – ঘনঘন মাড়া নাড়ার কারণ কী ছিল?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতায় স্রষ্টা তাঁর নতুন সৃষ্টির প্রতি বিরূপ হয়ে তাকে নিখুঁত করার জন্য অর্থাৎ বারংবার প্রাকৃতিক পটভূমি পরিবর্তনের জন্য অধৈর্যে ঘনঘন মাড়া নাড়ছিলেন।

৪১. ‘ইতিহাস অপমানিত’ কেন?
উত্তরঃ পরাধীনতার গ্লানিতে, মানুষের অপমানে আফ্রিকার ইতিহাস অপমানিত। সেই অপমানের চিহ্নকে চিরস্থায়ী করে দিয়ে গেছে লোভী, হিংস্র বর্বর সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলি।

৪২. ‘আসন্ন সন্ধ্যার শেষ রশ্মিপাতে’ – সন্ধ্যাকাল আসন্ন কেন?
উত্তরঃ অশুভ ধ্বনিতে দিনের অন্তিমকাল ঘোষণা করেছে গুপ্ত গহ্বরের পশুরা, দিনের শেষে পশ্চিম দিগন্তও ঝঞ্ঝাবাতাসে শ্বাসরুদ্ধ। সভ্যতার যেন সংকটকাল উপস্থিত, তাই রূপকার্থে বলা হয়েছে সন্ধ্যাকাল আসন্ন।

৪৩. ‘ক্ষমা করো’ – এই ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্য দিয়ে কবির কোন্ মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে?
উত্তরঃ এই ক্ষমাপ্রার্থনার মধ্য দিয়ে কবির অনুশোচনা এবং বিবেকবোধের প্রকাশ ঘটেছে।

৪৪. আফ্রিকার দুর্দিনে কবি কীভাবে তার পাশে থাকতে চেয়েছেন?
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তির ঘোর বিরোধী রবীন্দ্রনাথ ঔপনিবেশিক শাসন-পীড়নে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার ওপর নির্মম অত্যাচার ও অপমানের জন্য যুগান্তের প্রতিভূ হয়ে তার কাছে ক্ষমা চাইতে চান।

৪৫. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা ‘আফ্রিকা’ কবিতায় শেষ পুণ্যবাণীটি কী ছিল?
উত্তরঃ শ্বেতাঙ্গ সাম্রাজ্যবাদী শাসকের নির্দয় অত্যাচারে ক্ষতবিক্ষত আফ্রিকার কাছে নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনাকেই কবি হিংস্র প্রলাপের মাঝে সভ্যতার শেষ পুণ্যবাণী বলে মনে করেছেন।

৪৬. সমুদ্র আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে কীভাবে রেখেছিল?
উত্তরঃ সমুদ্র পৃথিবীর পূর্বভাগ থেকে আফ্রিকাকে ছিনিয়ে নিয়ে গিয়ে নিবিড় অরণ্যের অন্ধকারে বন্দি করে রেখেছিল।

৪৭. ‘গর্বে যারা অন্ধ তোমার সূর্যহারা অরণ্যের চেয়ে’ – তাৎপর্য লেখো।
উত্তরঃ সাম্রাজ্যবাদী শক্তি ক্ষমতাবলে আফ্রিকার সভ্যতা, সংস্কৃতি ও মানবতার অপমৃত্যু ঘটিয়েছে। তাই ‘আফ্রিকা’ কবিতায় তাদের গর্বকে আফ্রিকার গভীর অন্ধকার বনভূমির চেয়ে অন্ধ বলা হয়েছে।

৪৮. ‘চিরচিহ্ন দিয়ে গেল তোমার অপমানিত ইতিহাসে’ – কারা চিরচিহ্ন দিয়ে গেল?
উত্তরঃ তথাকথিত ‘সভ্য’ এবং সাম্রাজ্যবাদী ইউরোপীয় রাষ্ট্রশক্তিগুলি চিরচিহ্ন দিয়ে গেল।

৪৯. ‘অপরিচিত ছিল তোমার মানবরূপ’ — তার মানবরূপ কীভাবে অপরিচিত ছিল?
উত্তরঃ কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রচিত ‘আফ্রিকা’ কবিতায় আফ্রিকার মানবরূপ উপেক্ষার আবিল দৃষ্টিতে ঢাকা পড়ে ছিল, তাই তা অপরিচিত ছিল।

৫০. ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তরঃ ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘পত্রপুট’ কাব্যগ্রন্থ থেকে নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন👇

গল্প

জ্ঞানচক্ষু (গল্প) আশাপূর্ণা দেবী

বহুরূপী (গল্প) সুবোধ ঘোষ

পথের দাবী (গল্প) শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

নদীর বিদ্রোহ (গল্প) মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

অদল বদল (গল্প) পান্নালাল প্যাটেল

কবিতা

অসুখী একজন (কবিতা) পাবলো নেরুদা

আয় আরো বেধে বেধে থাকি (কবিতা) শঙ্খ ঘোষ

আফ্রিকা (কবিতা) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

অভিষেক (কবিতা) মাইকেল মধুসূদন দত্ত

প্রলয়োল্লাস (কবিতা) কাজী নজরুল ইসলা

অস্ত্রের বিরুদ্ধে গান (কবিতা) জয় গোস্বামী

সিন্ধুতীরে (কবিতা) সৈয়দ আলাওল

মাধ্যমিক বাংলা প্রবন্ধ

হারিয়ে যাওয়া কলি কলম (প্রবন্ধ) নিখিল সরকার

বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান (প্রবন্ধ) রাজশেখর বসু

মাধ্যমিক বাংলা নাটক

সিরাজদ্দৌলা (নাটক) শচীন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত

মাধ্যমিক বাংলা সহায়ক পাঠ

কোনি (সহায়ক পাঠ) মতি নন্দী

Leave a Reply